বিকেলের দিকে একটা বাতাস আমরা বিয়েবাড়ি খেতে এসেছি গ্রামে আগে আসা হয়নি কখনো এই দেশের বাড়িতে বাবা চেনাচ্ছে একে একে, ঠাকুর দালান মুখুজ্জেদের পুরনো ভিটে, পণ্ডিত মশায়ের টোল জাম পাড়তে গিয়ে যে খেজুরগাছে পড়ে পিঠে কাঁটা ঢুকেছিল আমাদের ছ’আনা ভাগের পুকুরে কেমন ঘাই মারে কালবোস মাছ বাবার মুখে আলো এসে পড়ছে, বাবা দেখাচ্ছে – আর আমি দেখছি কিছু জলা, জঙ্গল, ইট বের করা ভাঙাবাড়ি তারপর… বিকেলের দিকে একটা বাতাস এলো নদীর পাড় থেকে গ্রামদেশে হেমন্ত বিকেলের একটা গা-শিরশির করা বাতাস আমি শুনতে পেলাম কত অচেনা মানুষের ফিসফিস স্বর আমি শুনতে পেলাম গাছেরা চুপিচুপি কিছু বলছে মাথা নেড়ে নেড়ে ওরা একে অপরকে চেনাচ্ছে – শহরে থাকা ভট্চায-দের নতুন ছেলেটাকে একটা গা-শিরশির করা মায়াবী বাতাস যেন হাত দিয়ে আমার গাল টিপে দেখতে চাইছে চুলের ভিতরে আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে চিবুক ছুঁয়ে চুমু খাচ্ছে চকাস্ চকাস্ তখন মরে আসা আলোয় মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলাম আমার দেশ, আমার গ্রাম, আমার পূর্বপুরুষেরা… এতদিন কেন আমি এখানে আসিনি - এইকথা ভেবে আমার হঠাৎই মনখারাপ হল খুব।
১ ঘাতক এসেছে চুপি চুপি মনের ভেতর তার চৌকো পায়ের ছাপ বাগানের পথ জুড়ে বিকল মোটরগাড়ি ভোঁতা স্বরে হর্ন বাজায় এখনও পাও নি ছাড় , পাও নি স্নানের অনুমতি ফুলস্কেপে টব এঁকে কবে থেকে বসে আছো ম্লান পিয়ানোয় হাত রেখে জন্মবধির ডাকো , তাকে একবার ডেকে দিয়ে যাও যার কাছে আজন্ম বিষদাঁত বন্ধক রাখা ২ সে আসল রিং মাস্টার জীবনের কেঁদো বাঘ তার কাছে জড়োসড়ো থাবা বেহায়া খিদে নিয়ে ল্যাজ নাড়ে ক্ষুদ্রকায় টুলে গোটা মহাকাশ ঘুরেও পৃথিবী ব্যর্থ, অসহায় পল অনুপলে বদলেছে বাঁচার মহিমা হাজার সূর্য রাখো, মৃত্যু তবু একা-অন্ধকার ভয়ানক উপেক্ষা ছুঁড়ে দেয় জড়ানো কম্বলে...
অপূর্ব
উত্তরমুছুনধন্যবাদ সৌমী। ভালোলাগা অনেক।
মুছুনভোর, নদী, সূর্য ও শৃঙ্গের অনুপম কোলাজ
উত্তরমুছুনআপ্লুত।
উত্তরমুছুন