পোস্টগুলি

সম্পাদকীয়

ছবি
  সম্পাদকীয় বাতিঘর : কবিতা সংখ্যা "তোমার হাতের ছোঁয়ায় পাওয়া ঐ যে পাথরের কণা— লিখে রাখো, লিখে রাখো, লিখে রাখো" লিখে রাখো সুদিন, জন্মমুহূর্তের মন্ত্র এবং কবিতা। কবিতা জন্ম নেয় দুপুরের রোদে, রাস্তার ধুলোয়, বাসস্ট্যান্ডের অপেক্ষায়, কিংবা হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়া কোনো পুরোনো বিকেলে। মানুষের ভেতরে প্রতিদিনই কিছু শব্দ জমে থাকে—সব বলা হয় না, তবু তারা থাকে। বাতিঘর সেই অপ্রকাশিত শব্দগুলোর জন্যই একটুখানি আলো জ্বালাতে চেয়েছে। এই সংখ্যার কবিতাগুলো দিনের মতোই—কোথাও উজ্জ্বল, কোথাও মেঘলা, কোথাও আবার নিঃশব্দ। লিখে রাখো নৈঃশব্দের কবিতা, লিখে রাখো। শহরের ক্লান্তি আছে, মানুষের একাকীত্ব আছে, আবার অযাচিত আনন্দ প্রাপ্তিও আছে। কারণ জীবন যেমন একরঙা নয়, কবিতাও তেমন নয়। এসো বহুবর্ণরঞ্জিত কবিতা, মুগ্ধ হই, এসো। আমরা বিশ্বাস করি, কবিতা কোনো সশব্দ  ঘোষণা নয়; বরং মানুষের অন্তর্গত এক নরম আলো। সেই আলোই পথ দেখায়—কখনও খুব কাছে, কখনও খুব দূরে। এই বিশেষ সংখ্যায় বিভিন্ন প্রজন্মের কবিরা তাঁদের নিজস্ব দিন নিয়ে এসেছেন—নিজস্ব আকাশ, নিজস্ব অন্ধকার, নিজস্ব আলো নিয়ে। পাঠকের হাতে এই সংখ্যা তুলে দিয়ে মনে হয়, দিনের ভেতরেও হয়তো...

তৃষ্ণা বসাক

ছবি
  শিলে বাটা মুরগি রোজ রাতে একটা টানেল, তার মধ্যে বালি মাখার মেশিন, আমাকে তাগাড়ের মতো করে মাখা হচ্ছে, কোন বাড়ি হবে কিংবা পোলিং বুথ, আমার হাড় দিয়ে বজ্রগর্ভ বোমা, আমার কলজে কেটে রাস্তা সরল নির্বাচনী ব্যবস্থা- সবাই ভোট দেবে ছখানা গুলি  আর গাদা বন্দুক পেলেই…  আমি ও আমার চোদ্দ গুষ্টি শিলে বাটা মুরগির মতো উপাদেয় প্রতিটি ভোটারের পাতেই, বলকারী, বদলকারী বহুজন হিতায় বহুজন চুদায়।

মীরা মুখোপাধ্যায়

ছবি
বাস্তুদোষ।।  বাথরুমে সাদা পাত্রে লবণ রাখিনি আমরা অগ্নিকোণে রান্নাঘর, রান্নাঘরে গ্যাসের ওভেন তাও কই ! সিঁড়ির ক 'ধাপ নিচে রান্না হত উইন্ড চাইমও না, খাই খাই মাকালির ছবি পলেস্তারাহীন ঘরে যৌবনে বাস্তুদোষে  বিশ্বাস করিনি কিন্তু  বর্তমানে করি। তা না হলে ক্রমাগত ছকাঠা বিক্রি করে চার কাঠা তারপর দেড় কাঠা সবশেষে ভাড়াবাড়ি  এরকম হয় ! অথচ আমার বাবা পঞ্চমকারের তিনটির কাছে যাননি... এখন বিশ্বাস করি এরকম ক্ষয়, এরকম ভাঙচুর  ব্রাত্য হয়ে বেঁচে থাকা ইত্যাদি  একমাত্র বাস্তুদোষে হয়

সব্যসাচী মজুমদার

ছবি
 কূহক শিখেছ তুমি  কূহক শিখেছ তুমি, বক্রগতি ছল  কটাক্ষ, নতুন গ্রাম— শিখে নিলে তুমি । তখন‌ও পৃথিবীখানি বোঝেনি ফসল  কেড়ে নেবে গাছেদের প্রিয় জন্মভূমি  চকিতে বলেছ তুমি বৃষ্টির উপায়  ছুঁয়েছ ফুলের ঋতু, বাঘিনীর জল  তখন আকাশে দুটো চাঁদের সাড়ায়  মেতেছে নদীর মাছ… আঁখিটি নিশ্চল… মাতন লাগাও বড় লবণের স্বাদে  কেঁপে ওঠে লিঙ্গ, শব্দ, চিঠির বয়ান … কেঁপে যায় দূরগ্রহ… কষ্ট হয় তাতে  গড়ে ওঠে পল্লীগীতি, তারার বিজ্ঞান  এত যে দূরেই থাক, এত দীর্ঘ সুর … তোমার ভেতরে ঘামে আমার বিদূর

প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

ছবি
 সিদ্ধান্ত চরম ব্যর্থ দিনে  শিকারীর দশ আঙুল বাড়িয়েছে ধরবে বলেই  হাওয়া বইছে, ধ্যানমগ্ন হাওয়া হাওয়া বইছে দ্রুত, আরও দ্রুত  পাক খেয়ে পড়ে যাচ্ছে, মাথা যার এতদিন উঁচু ছিল,সোজা ছিল হাড়  এ পথে তো সায় নেই, দায় নেই প্রমাণ করার  লঘু হয়ে সংখ্যায় মাথা গুঁজে ঠাঁই নাড়াবার  সময় হয়ে এসেছে  তবুও অনড় হয়ে ভেঙেছে সে প্রেম বারবার..

চয়ন ভৌমিক

ছবি
  দীপা ও বলিপ্রদত্ত চেতনা  ১) নেচে ওঠে দৈবশক্তি,  তার ধৈর্যহীন, তাণ্ডব চক্ষু রক্ত খায় ...  এ' রাত অমাময় যদিচ, তবুও  প্রচ্ছন্ন পর্দার আবডালে বর্ণিল শুচিডাক, তারায় তারায় আলোকবর্তিকা তীব্র, জিহ্বাগ্রে উচ্চারিত অপ নিধনের মন্ত্র -  শোণিতশোষণ শেষে কাঙ্খিত প্রণাম। যজ্ঞধোঁয়া চোখ বেয়ে ওঠে,  শুভ ঢাকবাদ্য, কাঁসর ঘন্টাসহ শান্তিজল,  লোহা স্পর্শে শির গড়িয়ে নামে ; বিনাশ অস্ত্রে লেগে থাকে অন্ধকার কুহক - তীব্র আগুন, বিল্বমঙ্গলে বুকে শীতল হয়। লিখিত দিব্যপ্রহরে পাপসমাপ্তি, তারই হাত ধরে আশা, চোখে চোখ ফেলে  বলি আর্তি, বলি খুন, বলি - হে নারী প্রণম্য, তুমি ছিঁড়ে ফেল ধর্ষক নলি। লিঙ্গাগ্রে কোপ দাও চকচকে ধারালো খাঁড়ার। যেন হাঁড়িকাঠে বলিপ্রদত্ত লোভানল  অশালীন আঁধার, লোলুপ ধ্বজ-  এক জাদুবলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অস্ত্র বিন্যাসে দীপান্বিতার আসল স্তবে,   উজ্জ্বল হয় দীপের নরম প্রান্তে ২) আশ্চর্য ওই মন্ত্রোচ্চারণ, নেশাগ্রস্ত  ভক্তিযোগ হাতের চলন মুদ্রায় সম্মোহনের পঞ্চপ্রদীপ। আরতি তীব্রতর হলে, বাদ্যি  মিশে যায় শিরায় শিরায়  রক্ত চলকায় তন্ত্রর মেঝ...

ঝিলম ত্রিবেদী

ছবি
  অরণ্য - ১ ভেসে যায় কুশীনদী, ভেসে যায় নীল শৈলমালা গেরুয়ায় ওড়ে শূন্য, ওড়ে লাল লবঙ্গের মালা ধুনোয় গুগ্গুলে সাজে বজরঙ্গবলীর দুয়ার ধূপে দীপে ভরে ওঠে করতোয়া পূণ্য দেওদার দূরে দূরে কড়ারি, দূরে দূরে পদ্মমূল ফোটে ধুতুরা, আকন্দ, জবা, সর্ষের আরতি ফুটে ওঠে গেঁড় এনে পুঁতে দেয় শীর্ণকায় যুগলপ্রসাদ গোকুল আরক্ত-ধাম মেলে ধরে ক্ষীণ কর্ণপাত নয়নে মায়ার জল, ফুলে পুষ্পে গাঁথি মালাখানি গনোরি তেওয়ারি ডাকে, আয় কৃষ্ণ, ধর হাতখানি দারিদ্র্য দারিদ্র্য বড়ো গ্র্যান্টসাহেবের বটতলে বাথুয়া ফলিছে মৃদু, শাক তুলে আনে মেয়েগুলি আঁধারে আকাশ জ্বলে, পূর্ণিমায় জ্বলে চাঁদমণি সকলে মিলিয়া ব'সে চটে চটে, গান ধরে তাঁর বাহুর নিরিখে যাঁর পূজা চলে মাঝরাত তক্ তাহাতে মিলায় বিশ্ব, নাচে যুবকের দল-মাদল ধাতুরিয়া, ওষ্ঠে ধরে বিষ আর বুভুক্ষু রোদ নেচে চলে ছক্করবাজি নাচ, পায়ে বাজে ক্রোধ মুখে তার রক্ত ওঠে, গৌরবহীন একা বালক যশস্বী নয় কেউ, এরা সব দরিদ্র-লোক বনবাদাড়ের মতো উড়ে যায় গেরস্থালি তার আঘাতে বিদীর্ণ তোড়া, কণ্ঠে দেশোয়ালের বাজার কুন্তীর মতো যার অস্তাচলে সূর্য করে ওঠে রসাতলে যায় বুনো ভাণ্ডারীর অবাধ্য ক্ষেত চারিদিক নির্জন, চারদিক তুরঙ্গসম ঘোড়...