রাজদীপ ভট্টাচার্য
বিকেলের দিকে একটা বাতাস
আমরা বিয়েবাড়ি খেতে এসেছি গ্রামে
আগে আসা হয়নি কখনো এই দেশের বাড়িতে
বাবা চেনাচ্ছে একে একে, ঠাকুর দালান
মুখুজ্জেদের পুরনো ভিটে, পণ্ডিত মশায়ের টোল
জাম পাড়তে গিয়ে যে খেজুরগাছে পড়ে পিঠে কাঁটা ঢুকেছিল
আমাদের ছ’আনা ভাগের পুকুরে কেমন ঘাই মারে কালবোস মাছ
বাবার মুখে আলো এসে পড়ছে, বাবা দেখাচ্ছে –
আর আমি দেখছি কিছু জলা, জঙ্গল, ইট বের করা ভাঙাবাড়ি
তারপর…
বিকেলের দিকে একটা বাতাস এলো নদীর পাড় থেকে
গ্রামদেশে হেমন্ত বিকেলের একটা গা-শিরশির করা বাতাস
আমি শুনতে পেলাম কত অচেনা মানুষের ফিসফিস স্বর
আমি শুনতে পেলাম গাছেরা চুপিচুপি কিছু বলছে
মাথা নেড়ে নেড়ে ওরা একে অপরকে চেনাচ্ছে –
শহরে থাকা ভট্চায-দের নতুন ছেলেটাকে
একটা গা-শিরশির করা মায়াবী বাতাস যেন
হাত দিয়ে আমার গাল টিপে দেখতে চাইছে
চুলের ভিতরে আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে
চিবুক ছুঁয়ে চুমু খাচ্ছে চকাস্ চকাস্
তখন মরে আসা আলোয় মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলাম
আমার দেশ, আমার গ্রাম, আমার পূর্বপুরুষেরা…
এতদিন কেন আমি এখানে আসিনি - এইকথা ভেবে
আমার হঠাৎই মনখারাপ হল খুব।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন