চয়ন ভৌমিক


 

দীপা ও বলিপ্রদত্ত চেতনা 

১)

নেচে ওঠে দৈবশক্তি, 

তার ধৈর্যহীন, তাণ্ডব চক্ষু রক্ত খায় ... 

এ' রাত অমাময় যদিচ, তবুও 

প্রচ্ছন্ন পর্দার আবডালে বর্ণিল শুচিডাক,

তারায় তারায় আলোকবর্তিকা তীব্র,

জিহ্বাগ্রে উচ্চারিত অপ নিধনের মন্ত্র - 

শোণিতশোষণ শেষে কাঙ্খিত প্রণাম।

যজ্ঞধোঁয়া চোখ বেয়ে ওঠে, 

শুভ ঢাকবাদ্য, কাঁসর ঘন্টাসহ শান্তিজল, 

লোহা স্পর্শে শির গড়িয়ে নামে ;

বিনাশ অস্ত্রে লেগে থাকে অন্ধকার কুহক -

তীব্র আগুন, বিল্বমঙ্গলে বুকে শীতল হয়।

লিখিত দিব্যপ্রহরে পাপসমাপ্তি, তারই হাত ধরে আশা, চোখে চোখ ফেলে 

বলি আর্তি, বলি খুন, বলি -

হে নারী প্রণম্য, তুমি ছিঁড়ে ফেল

ধর্ষক নলি। লিঙ্গাগ্রে কোপ দাও

চকচকে ধারালো খাঁড়ার। যেন

হাঁড়িকাঠে বলিপ্রদত্ত লোভানল 

অশালীন আঁধার, লোলুপ ধ্বজ- 


এক জাদুবলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অস্ত্র বিন্যাসে

দীপান্বিতার আসল স্তবে, 


 উজ্জ্বল হয় দীপের নরম প্রান্তে


২)

আশ্চর্য ওই মন্ত্রোচ্চারণ, নেশাগ্রস্ত 

ভক্তিযোগ হাতের চলন মুদ্রায়

সম্মোহনের পঞ্চপ্রদীপ।


আরতি তীব্রতর হলে, বাদ্যি 

মিশে যায় শিরায় শিরায় 

রক্ত চলকায় তন্ত্রর মেঝেতে


আলোক তরল, ভোগের প্রসাদ :


উজ্জ্বল চোখেমুখে স্নান শেষ হলে

অধোমুন্ডতে কুশী ভরে, 

শিষ্য শিষ্যারা মাখে চরণামৃত


পুজো শেষে, শেষ রাতের ক্যাব

মন্দির দরজায় দাঁড়ায় - 


ফিরে যায় শৈব্যালয়ে।।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মঞ্জরী গোস্বামী

সোমা দত্ত

অসিত মণ্ডল