অমিত মজুমদার
বশ্যতা
শিরদাঁড়া শক্ত হলেই লুকিয়ে রাখা হবে নদীগর্ভে। এই গল্পের
নদীটা অত্যন্ত সাহসী। কোনো মৃতদেহই সে লুকোতে দেয়নি।
আমরা যে যা শব এনেছিলাম তার একটাও ডুবতে না দিয়ে
ভাসিয়ে নিয়েছে বুকের ওপর।
এমন রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে তাকে জল দেয়া বন্ধ করা হয়
শহরের প্রতিটা বৃষ্টি এখন তার জন্য নিষিদ্ধ।
অথচ এই নদীকে ভালোবেসে তার বুকে আশ্রয় পেতে চায়
অজস্র নিরপরাধ মেঘ।
এই দেশে রক্তের দাগ ঠিকমতো গোপন করা না শিখলে
কিছুতেই তাকে মেঘের আঁচল কুড়োতে দেয়া হয় না।
এটা নিয়ে নদী আর আমাদের মধ্যে তুমুল দরকষাকষি চলে
আমরা চোখকান খুলে ওৎ পেতে থাকি
চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে অগুনতি বেঁচে না থাকা হাড় পাঁজর
আমরা এইসব মেরুদণ্ডওয়ালা শরীর পেলেই
নদীকে বলি, বশ্যতা স্বীকার করলে জল দেবো। গভীর জল।
সে কথা শোনে না কিছুতেই। মনে মনে হাসে। সেও জানে।
আমাদের হাতে নিরাপদ জায়গা নেই মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলার।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন