ঝিলম ত্রিবেদী
অরণ্য - ১
ভেসে যায় কুশীনদী, ভেসে যায় নীল শৈলমালা
গেরুয়ায় ওড়ে শূন্য, ওড়ে লাল লবঙ্গের মালা
ধুনোয় গুগ্গুলে সাজে বজরঙ্গবলীর দুয়ার
ধূপে দীপে ভরে ওঠে করতোয়া পূণ্য দেওদার
দূরে দূরে কড়ারি, দূরে দূরে পদ্মমূল ফোটে
ধুতুরা, আকন্দ, জবা, সর্ষের আরতি ফুটে ওঠে
গেঁড় এনে পুঁতে দেয় শীর্ণকায় যুগলপ্রসাদ
গোকুল আরক্ত-ধাম মেলে ধরে ক্ষীণ কর্ণপাত
নয়নে মায়ার জল, ফুলে পুষ্পে গাঁথি মালাখানি
গনোরি তেওয়ারি ডাকে, আয় কৃষ্ণ, ধর হাতখানি
দারিদ্র্য দারিদ্র্য বড়ো গ্র্যান্টসাহেবের বটতলে
বাথুয়া ফলিছে মৃদু, শাক তুলে আনে মেয়েগুলি
আঁধারে আকাশ জ্বলে, পূর্ণিমায় জ্বলে চাঁদমণি
সকলে মিলিয়া ব'সে চটে চটে, গান ধরে তাঁর
বাহুর নিরিখে যাঁর পূজা চলে মাঝরাত তক্
তাহাতে মিলায় বিশ্ব, নাচে যুবকের দল-মাদল
ধাতুরিয়া, ওষ্ঠে ধরে বিষ আর বুভুক্ষু রোদ
নেচে চলে ছক্করবাজি নাচ, পায়ে বাজে ক্রোধ
মুখে তার রক্ত ওঠে, গৌরবহীন একা বালক
যশস্বী নয় কেউ, এরা সব দরিদ্র-লোক
বনবাদাড়ের মতো উড়ে যায় গেরস্থালি তার
আঘাতে বিদীর্ণ তোড়া, কণ্ঠে দেশোয়ালের বাজার
কুন্তীর মতো যার অস্তাচলে সূর্য করে ওঠে
রসাতলে যায় বুনো ভাণ্ডারীর অবাধ্য ক্ষেত
চারিদিক নির্জন, চারদিক তুরঙ্গসম
ঘোড়ার বুকের প্রতি নিঃশ্বাসে নেমে আসে পরী
উড়িয়ে উড়িয়ে দেয় ধ্বজাধারী শিবের আদল
এখানে প্রকৃতি বহে নিজমনে বহতা পাগল
গাছে গাছে শীতবস্ত্র, শাখে শাখে ডাকে শ্যামাপাখি
মটুকনাথের ঠোঁটে বেজে উঠলে সন্ধ্যার-রতি
সকলে কারুণ্য খুলে পরে নেয় সঙ্গীতের ক্ষত
আরণ্য মানুষের শিখা ওড়ে আগুনের মতো!


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন