পোস্টগুলি

এলা বসু

ছবি
  চাঁদ ও কৃষ্ণগহ্বর  জানতাম না  কাছে গেলে এত দুঃখ পেতে হয়  দূরে থাকা ভালো  অনেকটা দূরে থাকা সবচাইতে ভালো  একদিন চাঁদের আলোয় আমি নিজের মুখ দেখেছিলাম  সে এক বিরল অভিজ্ঞতা  জীবন একটি আর এরকম অভিজ্ঞতাও একটি  ক্রমশ সে চাঁদ হয়তো, হয়তো না চাইতেও আমাকে গ্রাস করে ফেলছিলো  বোঝামাত্রই দূরে ঠেলে ফেলে দিলো  হতভম্ব আমি,আহত বিষণ্ন আমি  বোবা পাখি কতকাল  ঘোর কাটছে ক্রমশ  হাজার জোনাকির আলো  জ্বলে নানা কাজে নানা সুরে  সে আলোতে চাঁদের ভিতরের সমস্ত কালো দেখে চমকে উঠি  যেন সহস্র কীট খেলা করে  ব্ল্যাকহোলে

রাজদীপ ভট্টাচার্য

ছবি
 বিকেলের দিকে একটা বাতাস  আমরা বিয়েবাড়ি খেতে এসেছি গ্রামে আগে আসা হয়নি কখনো এই দেশের বাড়িতে   বাবা চেনাচ্ছে একে একে, ঠাকুর দালান মুখুজ্জেদের পুরনো ভিটে, পণ্ডিত মশায়ের টোল জাম পাড়তে গিয়ে যে খেজুরগাছে পড়ে পিঠে কাঁটা ঢুকেছিল আমাদের ছ’আনা ভাগের পুকুরে কেমন ঘাই মারে কালবোস মাছ বাবার মুখে আলো এসে পড়ছে, বাবা দেখাচ্ছে – আর আমি দেখছি কিছু জলা, জঙ্গল, ইট বের করা ভাঙাবাড়ি তারপর…  বিকেলের দিকে একটা বাতাস এলো নদীর পাড় থেকে  গ্রামদেশে হেমন্ত বিকেলের একটা গা-শিরশির করা বাতাস আমি শুনতে পেলাম কত অচেনা মানুষের ফিসফিস স্বর আমি শুনতে পেলাম গাছেরা চুপিচুপি কিছু বলছে মাথা নেড়ে নেড়ে ওরা একে অপরকে চেনাচ্ছে –  শহরে থাকা ভট্‌চায-দের নতুন ছেলেটাকে একটা গা-শিরশির করা মায়াবী বাতাস যেন হাত দিয়ে আমার গাল টিপে দেখতে চাইছে চুলের ভিতরে আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে চিবুক ছুঁয়ে চুমু খাচ্ছে চকাস্‌ চকাস্‌ তখন মরে আসা আলোয় মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলাম  আমার দেশ, আমার গ্রাম, আমার পূর্বপুরুষেরা… এতদিন কেন আমি এখানে আসিনি - এইকথা ভেবে আমার হঠাৎই মনখারাপ হল খুব।

সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি
 দিনপঞ্জি  আসলে ডায়েরি লিখি। তোমার মনে হয় কবিতা। একজন প্রথিতযশা কবি একদিন আক্ষেপ করছিলেন, " কী হল কবিতা লিখে... " (বুঝি সে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায় প্রবল পুরুষের মতো।)  কিন্তু আমার কোন আক্ষেপ নেই।  (যদিও সে লাস্যময়ী প্রগলভা নারীর মতো হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়েছে বার বার বুকে এসে... )  যখন মনে মনে লিখেছি, যখন কাগজে লিখি।  কে বলেছে দিনপঞ্জি গদ্যেই লিখতে হবে। আমি তো আসলে ডায়েরি লিখি। তোমার বুঝি মনে হয় কবিতা!

পৃথা চট্টোপাধ্যায়

ছবি
 সাজো, রানি সাজো ১ মক্ষীরানি, তাকে ঘিরে জীবনবিলাস ; অথচ কালের  গর্ভে কে বাজায় এমন মন্দিরা ! ব্যস্ত শহর জুড়ে জাদুবাক্সে মায়াখেলা ;  ভালোবেসে সেই খেলা ঝুপঝুপে অন্ধকারে ভোরবেলা ক্যানিং লোকাল ধরে দলে দলে ছুটে আসে মেয়ে-পুরুষের ঝাঁক। মারদাঙ্গা, হুড়োহুড়ি, জীবনের ক্ষয়... নষ্ট পৃথিবীর মাটি,  চারিদিকে রক্তমাখা ভয়। এমন অসুখী দিনে ময়ূর পালকে সেজে -  কালাচাঁদ, আমাদের শ্যামরাই, ত্রিভঙ্গ মুরারি...বলে সাজো, রানি সাজো...  গুন গুন গুঞ্জরণ ওঠে । নতুন বসন্ত এলে কৃষ্ণচূড়ার গাছ ভরে যায়  ফুলে, এ পৃথিবী স্বপ্ন জেনো ;  মধুলোভী যারা আসে, লুঠ করে চলে যায় অমূল্য ভাঁড়ার - আবার নতুন কোন শিকার সন্ধানী... ২. তারপর বলেছিলে,  নির্ঘাৎ মথ ওটা, ওইভাবে ডানা মুড়ে বসে। শুকনো গাছের ডালে, ছাদের কার্নিসে। একদিন নীল ফুলে প্রজাপতি এলে ;  প্রেম আসে গোলাপের কুঁড়ি।  থুড়ি, সেটা ছিল নিতান্তই বসন্তবাহার। রবিগানে অস্ফুট উন্মুখ কুরুবক, লীলাপদ্ম, জম্বুদ্বীপ... হন্যমান জীবনখনন ! স্বপ্ন ছেড়ে একদিন উড়ে যায় পাখি-  নতুন নাটক শুরু- ভিন্ন কুশীলব। নাট্যশালা জমে ওঠে। তবুও কীভাবে ...

দেবার্ঘ সেন

ছবি
 ভোরের অচেনা শিশিরে... আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  দেবার্ঘ সেন আত্মহত্যা করেছে। পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হচ্ছে বডি। এ খবর লেখা নেই কোত্থাও, শুধু গুমোট হয়ে তাকিয়ে আছে ঘর দুয়ার। খরস্রোতা হয়েছে স্থানীয় নদী-নালা গম্ভীর হয়ে আছে বাতাস,  টিকালো নাক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স।  আমি হতবাক, কাতর হয়ে পড়ছি  পড়ছি অবসান লিপি, লিপি-জল যেন আজ প্রকৃতিরও কিছু হয়েছে,  মুঠো মুঠো বজ্র-বিদ্যুৎ, মেঘ ভেঙে কাটছে সাঁতার। আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  রেলে কাটা পড়া চূর্ণবিচূর্ণ কবিতা,  যে তুমি দেবার্ঘ সেন-এর অসমাপ্ত প্রেমিকা সে তুমি নিষ্প্রাণ বুকে যাবে কি মর্গে!  আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  জনমানবহীন, এই অসাড় জগত ছেয়ে ফেলেছে সাদা কাপড়ের থান  ভোরের অচেনা শিশিরে নিদ্রিত ঘাসে শুয়ে আছে, অশনাক্ত ঈশ্বর-কণা।

পিয়াংকী

ছবি
 অনির্বাণ, তুমি নি:শুল্ক বাজনা ... থেকে সভ্যতা, নিভছে রাস্তা। ঢোল ফাটার আওয়াজে উড়ে গেছে পাখপাখালি। এখন মা দুর্গার বরণ হবে। স্বয়ং রামচন্দ্র আসবেন মন্ডপে। নিরাময়  ... কিনতে কিনতে ফতুর হয়ে গেছি।  আজকাল লুকিয়ে রাখি সক্রেটিসকে। আয়নায় জল জমে, ঝাপসা নিজের মুখটুকুও। রামচরিতকথা শোনা শেষ হলে কানে তুলো গুঁজে দেব।  কঙ্কাল  ... নামিয়ে কাঠামোয় কে যেন  লেপে দিচ্ছে মাটি। চোখ ব্যথা। চক্ষুদান করছেন যিনি তার  আঙুলের নিচে প্রাচীন প্রলেপ । পৌরাণিক তুলোতে তাই মুছে নিচ্ছি চোখের জ্যোতি...  ডুবসাঁতার  ... না জানলেও ক্ষতি তেমন নেই,যদি না তোমায় চুমু দেবার জন্য শেষবেলায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে বসে থাকে অনির্বাণ। আমি অনির্বাণের চোখ। কৃষ্ণ  ... জমেছে ময়ূরের পালকে । বাঁশির ছিদ্রে তাই মহাপুরুষ। হেঁটে যাচ্ছেন রম্যা। অনির্বাণ, এবার বেরিয়ে দাঁড়াও। দেখো, অবসন্ন নদী আর কলসী, ঝুলে আছে  ঠংঠং সভ্যতায়...

শতাব্দী চক্রবর্তী

ছবি
 অকাতর সম্পর্ক ভুলে যেতে কষ্ট গিলতে হয় টিকিয়ে রাখার দায়ভার হয়তো ছিল শ্লীল ভঙ্গিমায় যদিও প্লেটোনিক কোনো কিছুই নয় এ সময়ে যেখানে পক্ষে পক্ষে অমাবস্যা নেমে আসে অযত্নেই।  স্নেহভার কাকে দিই বলো?  আকুল ছিল যে নদীপথ মুখোমুখি বসার সেখানে চর এসে বাসা বাঁধে,  তার ওপর ভাত চড়ায়  একটি অচল উনুনে ফুঁ দিয়ে দিয়ে কোনো এক যাযাবরের গনগনে স্ত্রী।  সেই আগুনের পরশমণি গ্রাস করে  অগ্রন্থিত কথাগুলি আমিও জ্বেলে দিই নির্বাণ লাভে ওপরে মেঘাতিবুরুর জমাট ঢাল, তবুও ভেতরে ভেতরে ভেসে যাই কত অনিদ্রার রাতে এভাবেই গন্তব্য উড়ে যায়, মরে যায়— একাকী পিচ্ছিল পথে।