পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সম্পাদকীয়

ছবি
  সম্পাদকীয় বাতিঘর : কবিতা সংখ্যা "তোমার হাতের ছোঁয়ায় পাওয়া ঐ যে পাথরের কণা— লিখে রাখো, লিখে রাখো, লিখে রাখো" লিখে রাখো সুদিন, জন্মমুহূর্তের মন্ত্র এবং কবিতা। কবিতা জন্ম নেয় দুপুরের রোদে, রাস্তার ধুলোয়, বাসস্ট্যান্ডের অপেক্ষায়, কিংবা হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়া কোনো পুরোনো বিকেলে। মানুষের ভেতরে প্রতিদিনই কিছু শব্দ জমে থাকে—সব বলা হয় না, তবু তারা থাকে। বাতিঘর সেই অপ্রকাশিত শব্দগুলোর জন্যই একটুখানি আলো জ্বালাতে চেয়েছে। এই সংখ্যার কবিতাগুলো দিনের মতোই—কোথাও উজ্জ্বল, কোথাও মেঘলা, কোথাও আবার নিঃশব্দ। লিখে রাখো নৈঃশব্দের কবিতা, লিখে রাখো। শহরের ক্লান্তি আছে, মানুষের একাকীত্ব আছে, আবার অযাচিত আনন্দ প্রাপ্তিও আছে। কারণ জীবন যেমন একরঙা নয়, কবিতাও তেমন নয়। এসো বহুবর্ণরঞ্জিত কবিতা, মুগ্ধ হই, এসো। আমরা বিশ্বাস করি, কবিতা কোনো সশব্দ  ঘোষণা নয়; বরং মানুষের অন্তর্গত এক নরম আলো। সেই আলোই পথ দেখায়—কখনও খুব কাছে, কখনও খুব দূরে। এই বিশেষ সংখ্যায় বিভিন্ন প্রজন্মের কবিরা তাঁদের নিজস্ব দিন নিয়ে এসেছেন—নিজস্ব আকাশ, নিজস্ব অন্ধকার, নিজস্ব আলো নিয়ে। পাঠকের হাতে এই সংখ্যা তুলে দিয়ে মনে হয়, দিনের ভেতরেও হয়তো...

তৃষ্ণা বসাক

ছবি
  শিলে বাটা মুরগি রোজ রাতে একটা টানেল, তার মধ্যে বালি মাখার মেশিন, আমাকে তাগাড়ের মতো করে মাখা হচ্ছে, কোন বাড়ি হবে কিংবা পোলিং বুথ, আমার হাড় দিয়ে বজ্রগর্ভ বোমা, আমার কলজে কেটে রাস্তা সরল নির্বাচনী ব্যবস্থা- সবাই ভোট দেবে ছখানা গুলি  আর গাদা বন্দুক পেলেই…  আমি ও আমার চোদ্দ গুষ্টি শিলে বাটা মুরগির মতো উপাদেয় প্রতিটি ভোটারের পাতেই, বলকারী, বদলকারী বহুজন হিতায় বহুজন চুদায়।

মীরা মুখোপাধ্যায়

ছবি
বাস্তুদোষ।।  বাথরুমে সাদা পাত্রে লবণ রাখিনি আমরা অগ্নিকোণে রান্নাঘর, রান্নাঘরে গ্যাসের ওভেন তাও কই ! সিঁড়ির ক 'ধাপ নিচে রান্না হত উইন্ড চাইমও না, খাই খাই মাকালির ছবি পলেস্তারাহীন ঘরে যৌবনে বাস্তুদোষে  বিশ্বাস করিনি কিন্তু  বর্তমানে করি। তা না হলে ক্রমাগত ছকাঠা বিক্রি করে চার কাঠা তারপর দেড় কাঠা সবশেষে ভাড়াবাড়ি  এরকম হয় ! অথচ আমার বাবা পঞ্চমকারের তিনটির কাছে যাননি... এখন বিশ্বাস করি এরকম ক্ষয়, এরকম ভাঙচুর  ব্রাত্য হয়ে বেঁচে থাকা ইত্যাদি  একমাত্র বাস্তুদোষে হয়

সব্যসাচী মজুমদার

ছবি
 কূহক শিখেছ তুমি  কূহক শিখেছ তুমি, বক্রগতি ছল  কটাক্ষ, নতুন গ্রাম— শিখে নিলে তুমি । তখন‌ও পৃথিবীখানি বোঝেনি ফসল  কেড়ে নেবে গাছেদের প্রিয় জন্মভূমি  চকিতে বলেছ তুমি বৃষ্টির উপায়  ছুঁয়েছ ফুলের ঋতু, বাঘিনীর জল  তখন আকাশে দুটো চাঁদের সাড়ায়  মেতেছে নদীর মাছ… আঁখিটি নিশ্চল… মাতন লাগাও বড় লবণের স্বাদে  কেঁপে ওঠে লিঙ্গ, শব্দ, চিঠির বয়ান … কেঁপে যায় দূরগ্রহ… কষ্ট হয় তাতে  গড়ে ওঠে পল্লীগীতি, তারার বিজ্ঞান  এত যে দূরেই থাক, এত দীর্ঘ সুর … তোমার ভেতরে ঘামে আমার বিদূর

প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

ছবি
 সিদ্ধান্ত চরম ব্যর্থ দিনে  শিকারীর দশ আঙুল বাড়িয়েছে ধরবে বলেই  হাওয়া বইছে, ধ্যানমগ্ন হাওয়া হাওয়া বইছে দ্রুত, আরও দ্রুত  পাক খেয়ে পড়ে যাচ্ছে, মাথা যার এতদিন উঁচু ছিল,সোজা ছিল হাড়  এ পথে তো সায় নেই, দায় নেই প্রমাণ করার  লঘু হয়ে সংখ্যায় মাথা গুঁজে ঠাঁই নাড়াবার  সময় হয়ে এসেছে  তবুও অনড় হয়ে ভেঙেছে সে প্রেম বারবার..

চয়ন ভৌমিক

ছবি
  দীপা ও বলিপ্রদত্ত চেতনা  ১) নেচে ওঠে দৈবশক্তি,  তার ধৈর্যহীন, তাণ্ডব চক্ষু রক্ত খায় ...  এ' রাত অমাময় যদিচ, তবুও  প্রচ্ছন্ন পর্দার আবডালে বর্ণিল শুচিডাক, তারায় তারায় আলোকবর্তিকা তীব্র, জিহ্বাগ্রে উচ্চারিত অপ নিধনের মন্ত্র -  শোণিতশোষণ শেষে কাঙ্খিত প্রণাম। যজ্ঞধোঁয়া চোখ বেয়ে ওঠে,  শুভ ঢাকবাদ্য, কাঁসর ঘন্টাসহ শান্তিজল,  লোহা স্পর্শে শির গড়িয়ে নামে ; বিনাশ অস্ত্রে লেগে থাকে অন্ধকার কুহক - তীব্র আগুন, বিল্বমঙ্গলে বুকে শীতল হয়। লিখিত দিব্যপ্রহরে পাপসমাপ্তি, তারই হাত ধরে আশা, চোখে চোখ ফেলে  বলি আর্তি, বলি খুন, বলি - হে নারী প্রণম্য, তুমি ছিঁড়ে ফেল ধর্ষক নলি। লিঙ্গাগ্রে কোপ দাও চকচকে ধারালো খাঁড়ার। যেন হাঁড়িকাঠে বলিপ্রদত্ত লোভানল  অশালীন আঁধার, লোলুপ ধ্বজ-  এক জাদুবলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অস্ত্র বিন্যাসে দীপান্বিতার আসল স্তবে,   উজ্জ্বল হয় দীপের নরম প্রান্তে ২) আশ্চর্য ওই মন্ত্রোচ্চারণ, নেশাগ্রস্ত  ভক্তিযোগ হাতের চলন মুদ্রায় সম্মোহনের পঞ্চপ্রদীপ। আরতি তীব্রতর হলে, বাদ্যি  মিশে যায় শিরায় শিরায়  রক্ত চলকায় তন্ত্রর মেঝ...

ঝিলম ত্রিবেদী

ছবি
  অরণ্য - ১ ভেসে যায় কুশীনদী, ভেসে যায় নীল শৈলমালা গেরুয়ায় ওড়ে শূন্য, ওড়ে লাল লবঙ্গের মালা ধুনোয় গুগ্গুলে সাজে বজরঙ্গবলীর দুয়ার ধূপে দীপে ভরে ওঠে করতোয়া পূণ্য দেওদার দূরে দূরে কড়ারি, দূরে দূরে পদ্মমূল ফোটে ধুতুরা, আকন্দ, জবা, সর্ষের আরতি ফুটে ওঠে গেঁড় এনে পুঁতে দেয় শীর্ণকায় যুগলপ্রসাদ গোকুল আরক্ত-ধাম মেলে ধরে ক্ষীণ কর্ণপাত নয়নে মায়ার জল, ফুলে পুষ্পে গাঁথি মালাখানি গনোরি তেওয়ারি ডাকে, আয় কৃষ্ণ, ধর হাতখানি দারিদ্র্য দারিদ্র্য বড়ো গ্র্যান্টসাহেবের বটতলে বাথুয়া ফলিছে মৃদু, শাক তুলে আনে মেয়েগুলি আঁধারে আকাশ জ্বলে, পূর্ণিমায় জ্বলে চাঁদমণি সকলে মিলিয়া ব'সে চটে চটে, গান ধরে তাঁর বাহুর নিরিখে যাঁর পূজা চলে মাঝরাত তক্ তাহাতে মিলায় বিশ্ব, নাচে যুবকের দল-মাদল ধাতুরিয়া, ওষ্ঠে ধরে বিষ আর বুভুক্ষু রোদ নেচে চলে ছক্করবাজি নাচ, পায়ে বাজে ক্রোধ মুখে তার রক্ত ওঠে, গৌরবহীন একা বালক যশস্বী নয় কেউ, এরা সব দরিদ্র-লোক বনবাদাড়ের মতো উড়ে যায় গেরস্থালি তার আঘাতে বিদীর্ণ তোড়া, কণ্ঠে দেশোয়ালের বাজার কুন্তীর মতো যার অস্তাচলে সূর্য করে ওঠে রসাতলে যায় বুনো ভাণ্ডারীর অবাধ্য ক্ষেত চারিদিক নির্জন, চারদিক তুরঙ্গসম ঘোড়...

সেলিম মণ্ডল

ছবি
  আমাদের গল্প ১ মৃত্যু অবধি ঠোঁট আর ঠোঁট অবধি দরজা জানালা খুলতেই দেখি—  লিপস্টিক দেওয়া কেউ বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ২ স্মৃতি চলে যায় খালি পায়ে বুট পায়ে খটখট করে যে মানুষটি ফিরে আসে বাড়ি তাকে কি দেখতে তোমার মতো নয়? ৩ প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া মানুষটি কি  সত্যিই গাছ হতে চেয়েছিল? ফেলে যাওয়া পরিবারে কোন ছায়া প্রয়োজন তা বৃক্ষরোপণ উৎসব জানে না

বর্ণালী কোলে

ছবি
  হোমো স্যাপিয়েন্স  পরিত্যক্ত বাড়ি, অতি প্রাচীন তার অবয়ব বাড়িটির মধ্যে ছিল একদিন আমাদেরই প্রজাতি হাসি, উৎসব, বিষাদ, বিচ্ছেদ, নিন্দা  শোষণ, শরীর, লোভ গান, কবিতা, গাছ হয়তো কয়েকটি আত্মহত্যাও ছিল! একটি হলুদ রঙের ডালিয়াও নিশ্চিত ছিল বাড়িটির সব জানালাগুলি  এখন  চোখের মতো উপড়ানো

শমিত মণ্ডল

ছবি
  কবিতার আত্মগত মূর্ছনা মাঠের কোণার দিকে একটাই বকুল গাছ, তবে ফুল নেই  ঘন সবুজ পাতা ঠিক যেন ছাতা  কে এসে দাঁড়ালো? আহ্ দুজন এসেছে  দুজনের ভাবসম্মিলন, ছেলেটির মোবাইলের গান মেয়েটি গানের মাঝে কথা, গুঞ্জন... সেও গান কবিতার মায়াজাল,আত্মগত মূর্ছনার দিন শেষ লিরিক কবিতা মনে হয় পিছিয়ে পড়বে ক্রমে জানি না কী হবে... প্রেম আর কবিতা পরিবর্তনপন্থী  এখন দেখুন ওদিকে, মেয়েটি নিজেই গাইছে গান ভালবাসার আবহমান কালের গান।

মঞ্জরী গোস্বামী

ছবি
  সবটুকু মায়া  ফোনের ও প্রান্তে তুমি আপাত নিরীহ ট্রামলাইন অনেক মৃত্যু উহ্য রেখে  শব্দ পাঠিয়ে দাও রাতারাতি সাদা লিফলেট  এ প্রান্তে উটের বিশ্বাস জলকে সরিয়ে রেখে জলতরঙ্গ বাজে  ধূ ধূ বালি বালিঘরে কেন যে দুটো দিন থাকতে বলো না ভাতে ভাত দিয়ে দেব উঠোনে খেলবে নধর ছায়া  ফোনের ও পাশে তুমি বারবার বলে যাও মায়া,  তোর সবটুকু মায়া

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি
  পাখি ফুলে ঘুম ঘুম হাওয়া  --------------------------- এক প্রতিটি ফুলের ভেতরে এক একটি পাখি। ঘুম ঘুম নাম জড়ানো হাওয়া। সারাদিন মুখ জুড়ে নামের মতো হাঁ।  দুই ফুলের সারা গা জুড়ে শুধুই ফুল। একটি ফুল, দুটি ফুল নয়। একটিই ফুল। শুধুই ফুল। পাখি পাখি নাম। তিন পথের ভেতরেও আছে একটি পাখি। মনে হয় না, পথ যেন উড়ে উড়ে কোথায় উড়ে যাচ্ছে? তাই তো চেনা পথে হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে পাই না চেনা সুর।  চার সুর তো ফুলেরই একটি নাম। ফুলের ভেতরে বদলে বদলে যায় কি রং? অথবা কোনোই দাগ নেই, এমনই যেন সকলের চোখের অচেনা হয়ে  পথের ধারে শুয়ে আছে? পাঁচ এসো জল হাত দিই তোমার বুকে। যদিও জানি কোথাও কোনও আগুন নেই। তবুও মাঝে মাঝেই হাওয়ায় কিছু না কিছু ভেসে আসে। সেসব রংদার কিছু নয়। বরং অনেক বেশি নিশ্চুপ নিজের পরিধি পরিচয়ে।

সমর্পিতা ঘটক

ছবি
-   জয়সিংহ লাল নীল রঙ গাঢ় হলে ভয় করে, বিসর্জনের বিকেল! ভ্রষ্ট দিনে দেখি আমারই মতো মেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে আমায় ছেড়ে, জানলার লাভসাইন গলে পড়ছে নিচের নর্দমায়, গুহামুখে লাভা, লাভামুখে মেঘ... বাতিল কবিতার মতো পুড়ছে কাঠামো, কাঠবিড়ালি জামরুল গাছ বেয়ে ভিক্ষে নেয় সান্ধ্য-করুণা। কাল কি ফেরত পাওয়া যাবে সেই ভূমিরূপ, যে গোলার্ধে তুমি ছিলে জয়সিংহ হয়ে?

দেবজ্যোতি দাশগুপ্ত

ছবি
  সু্যোগ সাফল্য চূড়ায় বসে নিজেকে অস্বীকার করে!  সম্ভাবনা আর আক্ষেপের আড়ালে আমি দেখতে পাই - শুরু করার আরেকটা সুযোগ চলে গিয়ে শীতের বিকেল নেমে আসছে দ্রুত।

সোনালী ঘোষ

ছবি
  শ্রী এত বেকুব আমি, অবেলার স্নান আর হারামজাদার বাঁশি... সেসব আশ্চর্য বুর্জোয়া সংকেত। আমাদের হাসাহাসির গায়ে  তখন কামনার মেদ আর শরীর ভরা জল...  আজ তবে নিশিপথ ধরে চলো  বিবেচনা করি, সেইসব সারি সারি শুয়ে থাকা  রাত জাগা কবিতা... দ‍্যাখো মন তোমায় জিগেস করি অথবা এইমাত্র বেজে ওঠা জলধ্বনি  আহা কেনো ভেসে যায়, ঐ নীল শাড়ি, নীল শাড়ি...

এলা বসু

ছবি
  চাঁদ ও কৃষ্ণগহ্বর  জানতাম না  কাছে গেলে এত দুঃখ পেতে হয়  দূরে থাকা ভালো  অনেকটা দূরে থাকা সবচাইতে ভালো  একদিন চাঁদের আলোয় আমি নিজের মুখ দেখেছিলাম  সে এক বিরল অভিজ্ঞতা  জীবন একটি আর এরকম অভিজ্ঞতাও একটি  ক্রমশ সে চাঁদ হয়তো, হয়তো না চাইতেও আমাকে গ্রাস করে ফেলছিলো  বোঝামাত্রই দূরে ঠেলে ফেলে দিলো  হতভম্ব আমি,আহত বিষণ্ন আমি  বোবা পাখি কতকাল  ঘোর কাটছে ক্রমশ  হাজার জোনাকির আলো  জ্বলে নানা কাজে নানা সুরে  সে আলোতে চাঁদের ভিতরের সমস্ত কালো দেখে চমকে উঠি  যেন সহস্র কীট খেলা করে  ব্ল্যাকহোলে

রাজদীপ ভট্টাচার্য

ছবি
 বিকেলের দিকে একটা বাতাস  আমরা বিয়েবাড়ি খেতে এসেছি গ্রামে আগে আসা হয়নি কখনো এই দেশের বাড়িতে   বাবা চেনাচ্ছে একে একে, ঠাকুর দালান মুখুজ্জেদের পুরনো ভিটে, পণ্ডিত মশায়ের টোল জাম পাড়তে গিয়ে যে খেজুরগাছে পড়ে পিঠে কাঁটা ঢুকেছিল আমাদের ছ’আনা ভাগের পুকুরে কেমন ঘাই মারে কালবোস মাছ বাবার মুখে আলো এসে পড়ছে, বাবা দেখাচ্ছে – আর আমি দেখছি কিছু জলা, জঙ্গল, ইট বের করা ভাঙাবাড়ি তারপর…  বিকেলের দিকে একটা বাতাস এলো নদীর পাড় থেকে  গ্রামদেশে হেমন্ত বিকেলের একটা গা-শিরশির করা বাতাস আমি শুনতে পেলাম কত অচেনা মানুষের ফিসফিস স্বর আমি শুনতে পেলাম গাছেরা চুপিচুপি কিছু বলছে মাথা নেড়ে নেড়ে ওরা একে অপরকে চেনাচ্ছে –  শহরে থাকা ভট্‌চায-দের নতুন ছেলেটাকে একটা গা-শিরশির করা মায়াবী বাতাস যেন হাত দিয়ে আমার গাল টিপে দেখতে চাইছে চুলের ভিতরে আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে চিবুক ছুঁয়ে চুমু খাচ্ছে চকাস্‌ চকাস্‌ তখন মরে আসা আলোয় মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলাম  আমার দেশ, আমার গ্রাম, আমার পূর্বপুরুষেরা… এতদিন কেন আমি এখানে আসিনি - এইকথা ভেবে আমার হঠাৎই মনখারাপ হল খুব।

সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি
 দিনপঞ্জি  আসলে ডায়েরি লিখি। তোমার মনে হয় কবিতা। একজন প্রথিতযশা কবি একদিন আক্ষেপ করছিলেন, " কী হল কবিতা লিখে... " (বুঝি সে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায় প্রবল পুরুষের মতো।)  কিন্তু আমার কোন আক্ষেপ নেই।  (যদিও সে লাস্যময়ী প্রগলভা নারীর মতো হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়েছে বার বার বুকে এসে... )  যখন মনে মনে লিখেছি, যখন কাগজে লিখি।  কে বলেছে দিনপঞ্জি গদ্যেই লিখতে হবে। আমি তো আসলে ডায়েরি লিখি। তোমার বুঝি মনে হয় কবিতা!

পৃথা চট্টোপাধ্যায়

ছবি
 সাজো, রানি সাজো ১ মক্ষীরানি, তাকে ঘিরে জীবনবিলাস ; অথচ কালের  গর্ভে কে বাজায় এমন মন্দিরা ! ব্যস্ত শহর জুড়ে জাদুবাক্সে মায়াখেলা ;  ভালোবেসে সেই খেলা ঝুপঝুপে অন্ধকারে ভোরবেলা ক্যানিং লোকাল ধরে দলে দলে ছুটে আসে মেয়ে-পুরুষের ঝাঁক। মারদাঙ্গা, হুড়োহুড়ি, জীবনের ক্ষয়... নষ্ট পৃথিবীর মাটি,  চারিদিকে রক্তমাখা ভয়। এমন অসুখী দিনে ময়ূর পালকে সেজে -  কালাচাঁদ, আমাদের শ্যামরাই, ত্রিভঙ্গ মুরারি...বলে সাজো, রানি সাজো...  গুন গুন গুঞ্জরণ ওঠে । নতুন বসন্ত এলে কৃষ্ণচূড়ার গাছ ভরে যায়  ফুলে, এ পৃথিবী স্বপ্ন জেনো ;  মধুলোভী যারা আসে, লুঠ করে চলে যায় অমূল্য ভাঁড়ার - আবার নতুন কোন শিকার সন্ধানী... ২. তারপর বলেছিলে,  নির্ঘাৎ মথ ওটা, ওইভাবে ডানা মুড়ে বসে। শুকনো গাছের ডালে, ছাদের কার্নিসে। একদিন নীল ফুলে প্রজাপতি এলে ;  প্রেম আসে গোলাপের কুঁড়ি।  থুড়ি, সেটা ছিল নিতান্তই বসন্তবাহার। রবিগানে অস্ফুট উন্মুখ কুরুবক, লীলাপদ্ম, জম্বুদ্বীপ... হন্যমান জীবনখনন ! স্বপ্ন ছেড়ে একদিন উড়ে যায় পাখি-  নতুন নাটক শুরু- ভিন্ন কুশীলব। নাট্যশালা জমে ওঠে। তবুও কীভাবে ...

দেবার্ঘ সেন

ছবি
 ভোরের অচেনা শিশিরে... আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  দেবার্ঘ সেন আত্মহত্যা করেছে। পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হচ্ছে বডি। এ খবর লেখা নেই কোত্থাও, শুধু গুমোট হয়ে তাকিয়ে আছে ঘর দুয়ার। খরস্রোতা হয়েছে স্থানীয় নদী-নালা গম্ভীর হয়ে আছে বাতাস,  টিকালো নাক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স।  আমি হতবাক, কাতর হয়ে পড়ছি  পড়ছি অবসান লিপি, লিপি-জল যেন আজ প্রকৃতিরও কিছু হয়েছে,  মুঠো মুঠো বজ্র-বিদ্যুৎ, মেঘ ভেঙে কাটছে সাঁতার। আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  রেলে কাটা পড়া চূর্ণবিচূর্ণ কবিতা,  যে তুমি দেবার্ঘ সেন-এর অসমাপ্ত প্রেমিকা সে তুমি নিষ্প্রাণ বুকে যাবে কি মর্গে!  আমি হতবাক হয়ে দেখছি দাঁড়িয়ে  জনমানবহীন, এই অসাড় জগত ছেয়ে ফেলেছে সাদা কাপড়ের থান  ভোরের অচেনা শিশিরে নিদ্রিত ঘাসে শুয়ে আছে, অশনাক্ত ঈশ্বর-কণা।

পিয়াংকী

ছবি
 অনির্বাণ, তুমি নি:শুল্ক বাজনা ... থেকে সভ্যতা, নিভছে রাস্তা। ঢোল ফাটার আওয়াজে উড়ে গেছে পাখপাখালি। এখন মা দুর্গার বরণ হবে। স্বয়ং রামচন্দ্র আসবেন মন্ডপে। নিরাময়  ... কিনতে কিনতে ফতুর হয়ে গেছি।  আজকাল লুকিয়ে রাখি সক্রেটিসকে। আয়নায় জল জমে, ঝাপসা নিজের মুখটুকুও। রামচরিতকথা শোনা শেষ হলে কানে তুলো গুঁজে দেব।  কঙ্কাল  ... নামিয়ে কাঠামোয় কে যেন  লেপে দিচ্ছে মাটি। চোখ ব্যথা। চক্ষুদান করছেন যিনি তার  আঙুলের নিচে প্রাচীন প্রলেপ । পৌরাণিক তুলোতে তাই মুছে নিচ্ছি চোখের জ্যোতি...  ডুবসাঁতার  ... না জানলেও ক্ষতি তেমন নেই,যদি না তোমায় চুমু দেবার জন্য শেষবেলায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে বসে থাকে অনির্বাণ। আমি অনির্বাণের চোখ। কৃষ্ণ  ... জমেছে ময়ূরের পালকে । বাঁশির ছিদ্রে তাই মহাপুরুষ। হেঁটে যাচ্ছেন রম্যা। অনির্বাণ, এবার বেরিয়ে দাঁড়াও। দেখো, অবসন্ন নদী আর কলসী, ঝুলে আছে  ঠংঠং সভ্যতায়...

শতাব্দী চক্রবর্তী

ছবি
 অকাতর সম্পর্ক ভুলে যেতে কষ্ট গিলতে হয় টিকিয়ে রাখার দায়ভার হয়তো ছিল শ্লীল ভঙ্গিমায় যদিও প্লেটোনিক কোনো কিছুই নয় এ সময়ে যেখানে পক্ষে পক্ষে অমাবস্যা নেমে আসে অযত্নেই।  স্নেহভার কাকে দিই বলো?  আকুল ছিল যে নদীপথ মুখোমুখি বসার সেখানে চর এসে বাসা বাঁধে,  তার ওপর ভাত চড়ায়  একটি অচল উনুনে ফুঁ দিয়ে দিয়ে কোনো এক যাযাবরের গনগনে স্ত্রী।  সেই আগুনের পরশমণি গ্রাস করে  অগ্রন্থিত কথাগুলি আমিও জ্বেলে দিই নির্বাণ লাভে ওপরে মেঘাতিবুরুর জমাট ঢাল, তবুও ভেতরে ভেতরে ভেসে যাই কত অনিদ্রার রাতে এভাবেই গন্তব্য উড়ে যায়, মরে যায়— একাকী পিচ্ছিল পথে।

সৌমী আচার্য্য

ছবি
 রাধামাধব তব অঙ্গে অঙ্গ দিনু, হে নাথ জ্বলছে ঊরু, যোনি, নাভি, বক্ষঃস্থল মাঝপুকুর জুড়ে দাপাদাপি, অগাধ অঠাঁই রাস্তায় পোস্টার, মোমবাতি, প্রতিবাদ যদিও রাধা ডুবছে বাধ্য হচ্ছে, আকাশবাণী নামে, মুখপুড়ির মরাই ভালো। মর্গের বাইরেও এত ঠাণ্ডা! হে নাথ কুরুক্ষেত্রেও কি দনুজদলনী আসেন? দূর থেকে ভেসে আসে হরিনাম। রাধামাধব, রাধামাধব। মাতৃরূপেন সংস্থিতা।

কৌশিক চক্রবর্ত্তী

ছবি
 সূর্যাস্তের বিপরীতে জন্মায়নি অন্ধকার গাঢ় হবার আশঙ্কা বিপরীত মুদ্রায় ধর্ম খুঁজেছে সাহসী ঘোড়সওয়ার- দিওয়ালির দিন  প্রদীপের অহংকার ভেঙে বেরিয়ে আসছে সোনালী পালক... যে প্রকৃতির শরীরে দ্বিধাসর্বস্ব লকলকে জিভ তার পুনর্জন্ম নিশ্চিত- আলো জ্বলেছে সর্বত্র আর আমার পিছনে জমাট বেঁধেছে ক্ষুধার্ত ঘাসজমি- অনর্গল ফানুসে এভাবে উজ্জ্বল হয়েছে সকল ঘটনাবহুল মুখ মিটে যাবে আলোর উৎসব পায়রার বুকে অস্পষ্ট হবে অতীতের শিলালিপি- তখন অন্ধকারের জন্য শুধু সূর্যাস্তকে দায়ী করার পালা...

পিয়ালী বসু ঘোষ

ছবি
  কাঠগোলাপ  মোহের রং কাঠগোলাপ  তুমি সেই গোলাপকাঠের নৌকো  গলুইতে আমাদের তুল্যমূল্য খেলা  সংশ্লেষে সংশ্লেষে মনোলগের নিয়তি এলিয়ে থাকে চিকন নির্ঝর  চূড়ান্ত কোলাহল থেকে দূরে থাকে  গোলাপকাঠের হৃদয়  আর মস্তিষ্কের প্রাচীন সাঁতার